নিজস্ব প্রতিবেদক:: ফাহামিদুলকে দলে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে শেষ পর্যন্ত বৈঠক করতে হয়েছে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে। বুধবার টিম হোটেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সাথে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত যদিও কোনো পক্ষ গণমাধ্যমে জানাননি। তবে জানা গেছে, বাফুফে সভাপতি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। বুধবার সকাল থেকেই দেশের ফুটবলে সমর্থকেরা রাজপথে নামেন। নানা স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে শাহবাগ। ইতালি প্রবাসী এই তরুণকে দলে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি তুলেছেন বাফুফের জাতীয় দল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ারও। সমর্থকদের অভিযোগ সিন্ডিকেটের পছন্দের বাইরে কোনো ফুটবলার সুযোগ পান না জাতীয় দলে। প্রবাসীদের ডেকে এনে তাদের সিন্ডিকে নিতে না পারলে বিদায় করে দেন। ফাহামিদুলের বেলায়ও সেটা ঘটেছে বলে অভিযোগ সমর্থকদের।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই বিক্ষোভ শুরু হয় ঢাকায়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার দুপুরেই বিক্ষোভ করছেন ফুবটল সমর্থকেরা। মঙ্গলবার সৌদী আরব থেকে দেশে ফিরে জাতীয় দল। তবে দেশে ফেরানো হয়নি ফাহামিদুলকে। তাকে ইতালিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খবরে সমর্থকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা বিক্ষোভ মিছিল করছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাফুফে ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন সমর্থকেরা। এরপর শাহবাগ থেকে ফুটবল সমর্থকদের আরেকটি বিক্ষোভ হোটেল ইন্টারকন্টিনালে যায়। সেখানে জাতীয় দল অবস্থান করছে। বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা সিন্ডিকেট ভেঙে দাউ, গুড়িয়ে দাও সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ইতালির ফুটবলার ফাহামিদুল। ইতালির ঘরোয়া ফুটবলের ক্লাব ওলবিয়া কালসিওতে খেলছেন তিনি। স্বপ্ন দেখছিলেন বাংলাদেশের লাল সবুজ জার্সিতে খেলার। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই তরুণ ফুটবলারকে ডেকেও আনে। সৌদী আরবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন, অনুশীলন ম্যাচ খেলেছেন।
অনুশীলন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন ফাহামিদুল। অথচ সেই তাকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে সৌদী আরব থেকেই। দলের সঙ্গে ঢাকায় আনেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। তাকে বাদ দেওয়ার অদ্ভুত ব্যাখা দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। বলছেন বয়স কম, তাই বাদ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের জন্য বয়স নয়, পারফর্ম যে প্রয়োজন সেটাই যেনো ভুলে গেছেন এই কোচ।
এই ফুটবলারকে বাদ দেওয়া তুমুল সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের কারণেই ফাহামিদুলকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুশীলন ম্যাচে তাকে টিকমতো বলও দেওয়া হয়নি। ফুটবলাররাও দলে প্রতিযোগিতা কমাতে অসহযোগিতা করেছেন এই তরুণকে। এ নিয়ে সমালোচনা করছেন সাবেক ফুটবলাররাও
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য আজ নিজের ফেসবুকে ফাহামিদুলকে বাদ দেওয়ার সমালোচনা করে লিখেন, ‘আমি হতাশ হয়েছি ফাহামিদুল বাদ পড়াতে। ইতালিয়ান ফুটবলে চতুর্থ ডিভিশনে খেলা একজন খেলোয়াড় এবং ট্রেনিং ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড়… যার মাঝে অনেক সম্ভাবনা আছে তাকে ফাইনাল স্কোয়াডে রাখলে ভালো করত আমার বিশ্বাস।’
এভাবে ডেকে এনে বিদায় করে দেওয়ায় বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার আগ্রহ হারাবেন ফাহামিদুল মন্তব্য করে সাবেক গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব, ‘এই মুহূর্তে ফাহামিদুলকে বাদ দেওয়ায় ভবিষ্যতে তার লাল–সবুজের জার্সির প্রতি এমন আগ্রহ থাকবে কি না সেটা দেখার বিষয়।’
সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম জানিয়েছেন, এটা বাজে উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘আপনি তাকে মাঠে নাও নামাতে পারতেন; কিন্তু এভাবে বিদায় করে দিলেন। এটা একটা বাজে উদাহরণ। তাকে রাখা উচিত ছিল।’
সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা (প্রবাসী) বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চায় তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, এভাবে বাদ দিলে পরবর্তী সময়ে কেউ আসতে চাইলে ফাহামিদুলের উদাহরণটা সামনে আসবে। আপনি তো তাকে দেখেশুনেই এনেছেন, তাহলে এখন আবার ক্যাম্প থেকেই কেন বাদ দিলেন।’
ফাহামিদুলকে বাদ দেওয়া নিয়ে কোচ কাবরেরার ব্যাখ্যা, ‘সে খুবই প্রতিভাবান ফুটবলার। দলের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তাঁর জন্য ভালোই হলো। আসলে সে এখনো তরুণ, বাকিদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর আরও সময় লাগবে।’
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটম/নিপ্র/ডেস্ক/০০